Home বাণিজ্য মৎস্য মেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

মৎস্য মেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

by Razon

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল-এর বল রুমে ‘ফিড দ্য ফিউচার বাংলাদেশ অ্যাকোয়াকালচার অ্যান্ড নিউট্রিশন অ্যাক্টিভিটি’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প সমাপ্তি কর্মশালা এবং অ্যাকোয়াকালচার ইন্টারভেনশন ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উক্ত অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মাহবুবুল হক। সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার রিজিওনাল ডিরেক্টর ক্রিস্টোফার প্রাইস।

ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে ৫ বছর মেয়াদী এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশ। মৎস্য উৎপাদনে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সাড়ে ২৪ মিলিয়ন ডলারের এ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। এরই মধ্যে প্রকল্পটির আওতায় ২৩টি জেলায় প্রায় ৩ লাখ ৮৬ হাজার মৎস্যজীবী সুফল পেয়েছেন। প্রকল্পটি মূলত বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করে। মৎস্য খাতের প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য এ প্রকল্পের মাধ্যমে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সুফল বয়ে এনেছে। প্রকল্পের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন থেকে ভোক্তার টেবিলে পৌঁছানো পর্যন্ত জড়িত সব অংশীজনকে একটি প্লাটফর্মে আনা হয়েছে। মৎস্যচাষি, উদ্যোক্তা ও মৎস্যচাষে জড়িত প্রতিষ্ঠানসমূহ পরামর্শ ও উপকরণের পাশাপাশি আমানতহীন ঋণ সুবিধাও পেয়েছেন প্রকল্প থেকে। বাংলাদেশের মৎস্যখাতের উন্নয়নে প্রকল্পটি নি:সন্দেহে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছে। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩০ নভেম্বর, ২০২৩। এই প্রকল্প সমাপ্তি কর্মশালা এবং অ্যাকোয়াকালচার ইন্টারভেনশন ফেয়ার-এর মাধ্যমে এই অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক সমাপনী টানা হয়েছে।

অনুষ্ঠানটি সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অ্যাকোয়াকালচার অ্যাক্টিভিটির সাফল্য, অর্জিত জ্ঞান এবং অংশীজনদের ওপর এর প্রভাব আলোচনা ও প্রদর্শন করা হয়। আলোচনাপর্বের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অ্যাকোয়াকালচার অ্যাক্টিভিটি প্রকল্পের চিফ অব পার্টি ড. মনজুরুল করিম।

তিনি বলেন, “আমাদের সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দু উৎসাহী কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত পরিষেবা গ্রহণের মধ্যে নিহিত।” ড. মনজুরুল করিম তাঁর বক্তব্যের মাঝে অ্যাকোয়াকালচার অ্যাক্টিভিটির চূড়ান্ত কর্মক্ষমতা মূল্যায়নের ওপর একটি উপস্থাপনা ও প্রকল্পের সফলতার ভিডিও চিত্র পরিবেশন করেন।  

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউএসআইডি’র ইকোনোমিক গ্রোথ অফিসের প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট এবং প্রকল্পের অ্যাগ্রিমেন্ট অফিসার্স রিপ্রেজেন্টেটিভ মোহাম্মাদ সাঈদ শিবলী, ইউএসএআইডি’র ইকোনোমিক গ্রোথ অফিসের ডেপুটি ডিরেক্টর জোসেফ লেসার্ড, ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার রিজিওনাল ডিরেক্টর ক্রিস্টোফার প্রাইস এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর মহাপরিচালক ড. মো. জুলফিকার আলী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মাদ সাঈদ শিবলী বলেন, “এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রাণিজ প্রোটিনের চাহিদা পূরণে মাছের ভূমিকা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছে।” 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জোসেফ লেসার্ড বলেন, “এটি একটি অন্যতম বড় এফটিএফ (ফিড দ্য ফিউচার) প্রকল্প। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষকরা প্রযুক্তি সুবিধা, মৎস্য চাষের উপকরণ ও বিভিন্ন সহযোগিতা পেয়েছেন। পাশাপাশি টেকসই প্রযুক্তি, ব্যবসার উন্নয়ন ও বিপণনের ক্ষেত্রে পেয়েছেন সহায়তা। দেশের জনগণ উপকৃত হয়েছেন প্রোটিন ও পুষ্টির চাহিদা পূরণের মাধ্যমে। এ প্রকল্প অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মৎস্য রপ্তানির প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন।” বাংলাদেশেই উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় রুই মাছের নতুন স্ট্রেইন উদ্ভাবনের মাধ্যমে রুই মাছের উৎপাদন ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধিকে এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মোঃ জুলফিকার আলী বলেন, “ওয়ার্ল্ডফিশ ও বিএফআরআই’র দীর্ঘদিন একসাথে কাজ করার ইতিহাস রয়েছে। আমরা সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের  উন্নয়নে নানা রকম প্রকল্পে কাজ করে চলছি। আমি আশা করছি ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। আমি এই প্রকল্পের সাথে জড়িত সকল অংশীজনদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মাহবুবুল হক বলেন, “বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত উন্নয়ন নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো জনগণের জীবন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং পানি সম্পদের উন্নয়নের মাধ্যমে এ দেশকে সমৃদ্ধ করা। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইউএসএআইডি-এর ‘ফিড দ্য ফিউচার’ বাংলাদেশ অ্যাকোয়াকালচার অ্যান্ড নিউট্রিশন অ্যাক্টিভিটি’র মাধ্যমে ওয়ার্ল্ডফিশ যেভাবে কাজ করেছে, আমি মনে করি এটিও বাংলাদেশের সাফল্যের যাত্রা পথে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।”

আলোচনাপর্ব শেষ হয় ওয়ার্ল্ডফিশ এর বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়া’র রিজিওনাল ডিরেক্টর ক্রিস্টোফার প্রাইস-এর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। তিনি বলেন, “ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে ফিড দ্য ফিউচার শীর্ষক এ প্রকল্পটি সাফল্যের সাথে শেষ করতে পারায় ওয়ার্ল্ডফিশ অত্যন্ত আনন্দিত। এই আনন্দের অংশীদার শুধু সংশ্লিষ্ট কৃষক, সুবিধাভোগী ও প্রকল্পের কর্মীরাই নয়, এর সাথে মৎস্য অধিদপ্তর, বিএফআরআইসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান জড়িত, যাদের সবার নাম এত অল্প পরিসরে এখানে বলা সম্ভব হয়। আমি মনে করি ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় অ্যাকুয়াকালচারের ক্ষেত্রে ওয়ার্ল্ডফিশ আরও সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাবে।”

আলোচনাপর্বের মধ্যে-মধ্যেই প্রদর্শিত হয় প্রকল্পের বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রকল্পের সহায়তায় সফল মৎস চাষিদের ভিডিও এবং সফলতার গল্প। এছাড়া বান্দরানের আদিবাসী গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশ করে একদল শিশুশিল্পী। আলোচনা পর্বের পাশাপাশি অ্যাকোয়াকালচার অ্যাক্টিভিটির নানা উদ্যোগের ছবির প্রদর্শনী, নিউট্রিশন সেনসিটিভ অ্যাকুয়াকালচারের মিনিয়েচারসহ মেলায় দর্শনার্থীদের জন্য ছিল আরও নানা আয়োজন। সব শেষে সফল চাষি এবং অংশীজনদের মাঝে ক্রেস্ট এবং মেডেল বিতরণ এবং গ্রুপ ফটো সেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।

ঢাকা, ২৬ অক্টোবর:

You may also like

Leave a Comment