বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ছয়টি বিভাগেই ৬ জন পরিচালক নিয়োগ পেয়েছেন। এর মধ্যে …
Latest News
-
-
শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি ও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবস উদযাপন করলো দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন। উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা দূর করার প্রতিশ্রুতি অনুসরণ করে গ্রামীণফোন চায় সবার ক্ষমতায়ন- যেন সবাই সামগ্রিকভাবে সংযুক্ত বিশ্বের অংশীদার হতে পারেন। শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আরও সহজলভ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে গ্রামীণফোন ‘সাইনলাইন’ সেবা প্রদান করে আসছে। এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা ভিডিও কলের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ সেবা গ্রহণ করতে পারেন। গ্রামীণফোন এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারের এজেন্টরা এই সেবা প্রদানে দক্ষ। কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য, গ্রামীণফোন এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারের সকল এজেন্টরা ইশারা ভাষায় প্রাথমিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়ে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ আরাফাত লতা। ইতোমধ্যে তারা অনলাইনে গ্রাহকদের সাইনলাইন সেবায় সংযুক্ত করছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছেন । এছাড়া অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে একটি বিশেষ সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ প্লে-লিস্ট চালু করেছে গ্রামীণফোন। এখানে প্রতিদিনের কাজে ব্যবহৃত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাইন এবং সচরাচর জিজ্ঞাসিত টেলিযোগাযোগ সেবার টিউটোরিয়ালগুলো পাওয়া যায়। গ্রাহকরা মাইজিপি অ্যাপে সাইনলাইন লিঙ্কের মাধ্যমে সহজেই এই সেবা নিতে পারেন। এই উদ্যোগ সবার অন্তর্ভুক্তি এবং প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে গ্রামীণফোনের প্রতিশ্রুতিকে আরো দৃঢ় করেছে। এই বছর আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবস উপলক্ষ্যে গ্রামীণফোন তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি আবেগঘন ভিডিও শেয়ার করেছে। এই ভিডিওটির মূল ভাবনা ছিল: “সবার পৃথিবী না বুঝলে, পৃথিবী সবার হবে কিভাবে?”। ভিডিওতে মুক্তা নামের এক তরুণীকে দেখা যায়, যিনি একজন সাংকেতিক ভাষা বিশেষজ্ঞ। মুক্তা তার বাক প্রতিবন্ধী ভাই ইফতি, যিনি শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন এবং তার মতো আরও অনেকে যারা শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী তাদের জন্য একজন ব্যাখ্যাকার হিসেবে কাজ করেন। মুক্তার এই অভূতপূর্ব যাত্রা যোগাযোগের তাৎপর্য এবং অন্যকে বোঝার রূপান্তরকারী শক্তিকে তুলে ধরে। মুক্তা তার অভিজ্ঞতার তুলে ধরে বলেন, “যেহেতু আমার বাবা, মা ও ভাই- সবাই শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী তাই আমি শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী না হওয়া সত্ত্বেও সাংকেতিক ভাষা শিখেছি। আমি সাংকেতিক ভাষার ব্যাখ্যাকার হয়েছি, যাতে আমার ভাইয়ের মত অন্যদের যোগাযোগে ও সংযুক্ত থাকতে সহায়তা করতে পারি। এটি আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া। চলমান ‘ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি’প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল দক্ষতা প্রদানের লক্ষ্যে একসাথে কাজ করে যাচ্ছে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও গ্রামীণফোন। দুই বছরব্যাপী এই উদ্যোগে ডিজিটাল দক্ষতা এবং অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে কাস্টমাইজড প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে এসব গোষ্ঠীকে। এতে প্রান্তিক মানুষেরা গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩২ জেলায় ২১ লাখেরও বেশি মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৬৫ শতাংশই নারী। প্রশিক্ষণ, কমিউনিটি রেডিও এবং যুব-নেতৃত্বাধীন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গ্রামীণফোন এই জনগোষ্ঠীর অধিকারের পক্ষে কথা বলছে এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে তাদের সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানও উন্নত করছে। পাশাপাশি সুষ্ঠু পরিবেশ, সমাজ এবং সুশাসন (ইএসজি) নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কোম্পানিটি। গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) মোহাম্মদ সাজ্জাদ হাসিব বলেন, “গ্রামীণফোনে আমরা যা কিছু করি তার সব কিছুর কেন্দ্রে থাকেন গ্রাহক। আমাদের ৮.৫ কোটির বেশি গ্রাহকের মধ্যে শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন ধরণের মানুষ রয়েছেন। ভাষার শক্তি যেমন অপরিহার্য, তেমনি ইশারা ভাষাকেও সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন; যাতে আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে পারি। আমাদের সেল্ফ সার্ভিস ডিজিটাল কেয়ার মাইজিপি অ্যাপে এবং ওয়েবসাইটে ‘সাইনলাইন’ সেবার অন্তর্ভুক্তি সেই প্রতিশ্রুতিরই একটি অংশ। এর মাধ্যমে আমরা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সেবা নিশ্চিত করতে চাই। আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিতে আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি আমরা আরও বেশি সংযুক্ত এক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সংকল্পবদ্ধ।” এই প্রসঙ্গে গ্রামীণফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার (সিসিএও) হ্যান্স মার্টিন হেনরিক্সন বলেন, “আমাদের প্রতিশ্রুতি শুধু অন্তর্ভুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আমরা ডিজিটাল দুনিয়ায় মানুষের ক্ষমতায়নে সংকল্পবদ্ধ। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেন ভবিষ্যত উপযোগী দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জন করতে পারেন এজন্য বিনিয়োগ করার মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি যেন সবাই সমাজে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পান। এই উদ্যোগটি আমাদের বিশ্বাসের প্রতিফলন যে, একসাথে আমরা ভাষার বাধা দূর করতে পারি; আর সংযোগের সুবিধাগুলি সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে কাউকে পিছিয়ে না রেখে বৈষম্য কমাতে পারি।
-
‘ক্লিন এয়ার’ প্রকল্পে ৩০ কোটি ডলার দেবে বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের ক্লিন এয়ার …
-
বিশ্বের বৃহত্তম ইএম টুয়েন্টিফোর সফটওয়্যার সল্যুশন স্থাপন করেছে দেশের শীর্ষ ডিজিটাল সংযোগ প্রদানকারী কোম্পানি গ্রামীণফোন। বিপুল নেটওয়ার্ক অ্যাক্টিভিটির ডেটা প্রক্রিয়াকরণ, উল্লেখযোগ্যভাবে গ্রাহক বিলিং এর নির্ভুলতা উন্নত করতে এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা আরো সমৃদ্ধ করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে এরিকসনের এই প্রযুক্তি। অত্যাধুনিক এই সিস্টেমটি গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক জুড়ে তৈরি হওয়া বিপুল ডেটা সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ এবং তা ব্যবহার উপযোগী করতে সক্ষম করে। এটি নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্সের আদ্যোপান্ত ও গ্রাহকদের সেবা গ্রহণের ধরণ সম্পর্কে তথ্য প্রদান এবং বিলিংয়ের মান উন্নত করতে সহায়ক। ইএম টুয়েন্টিফোর সিস্টেমটি ডেটাগুলোকে একীভূতকরণ এবং মানসম্মত একটি ফরম্যাটে আনতে সক্ষম, যা পরিচালনগত দক্ষতা ও পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এক মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে। অত্যাধুনিক এই সিস্টিমটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা কার্যকরভাবে ১০ কোটির বেশি গ্রাহকের তথ্য ব্যবস্থাপায় সহায়ক; যা দৈনিক ৬শ কোটির বেশি ডাটা ট্রানজেকশনের সমান। যার ফলে এই ধরণের প্রযুক্তি স্থাপনের দিক থেকে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ। এটি শুধু টেলিযোগাযোগ শিল্পের একটি মাইলফলক অর্জন নয়, গ্রাহক তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করে সেবার মান আরো বাড়াতে গ্রামীণফোনের একাগ্রতার প্রতিফলন। ইএম টুয়েন্টিফোরের বহু সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহৃত ডাটা প্রক্রিয়াকরণ, বিভিন্ন ডেটা ফরম্যাট ও প্রোটোকলের মধ্যে সমন্বয় সাধন, বৈচিত্র্যময় নেটওয়ার্ক প্রযুক্তিতে সহায়ক এবং গ্রাহক তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে দ্রুততম সময়ে বিপুল সংখ্যক ডাটা প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা। এই মানসম্মত ডাটাগুলো পরবর্তীতে বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। যেমন: বিলিং, রিপোর্টিং এবং নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে গ্রাহকদের জন্য আরো কার্যকর বিল তৈরি করা। এটি সেবা গ্রহণের পরিমাণ অনুযায়ী যথাযথ বিলিং নিশ্চিত করতে সহায়ক। গ্রামীনফোনের স্থাপন করা এই প্রযুক্তিতে ভবিষ্যতের প্রযুক্তির জন্য সহায়ক একটি ভার্চুয়ালাইজড প্ল্যাটফর্মসহ নতুন প্রজন্মের সফটওয়্যার ফিচারগুলো রয়েছে। গ্রাহকদের সর্বোত্তম সেবা প্রদানে গ্রামীণফোনের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন এই পদক্ষেপ। গ্রামীণফোনের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, “বিশ্বের বৃহত্তম এরিকসনের এই ইএম টুয়েন্টিফোর ডেটা মেডিয়েশন ব্যবস্থা স্থাপন আমাদের উদ্ভাবন ও গ্রাহককেন্দ্রিকতার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন, যা আমাদের কর্মদক্ষতাকে আরো দৃঢ় করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ডেটা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের পরিবর্তনশীল ডিজিটাল চাহিদা পূরণে এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চেষ্টা করছি, যাতে আমরা ভবিষ্যতের কানেক্টিভিটি এর মাধ্যমে আমাদের গ্রাহকদের সর্বোত্তম সেবা দিতে পারি।”গ্রামীণফোনের চিফ ইনফরমেশন অফিসার (সিআইও) নিরঞ্জন শ্রীনিবাসন বলেন, “ইএম টুয়েন্টিফোরের মাধ্যমে গ্রামীণফোন তাদের গ্রাহক ও খুচরা বিক্রেতাদের ব্যবহার এবং প্রেক্ষাপটের জন্য আরও ব্যক্তিভিত্তিক ও তাৎক্ষণিক ডেটা বিশ্লেষণ এবং এআই-সমৃদ্ধ তথ্য প্রদান করতে সক্ষম হবে। এটি আমাদের গ্রাহকদের বিলিংয়ের মান বৃদ্ধি এবং ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি দেবে নিখুঁত বিলের নিশ্চয়তা।”বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়ার হেড অব এরিকসন ডেভিড হেগারব্রো বলেন, “নেটওয়ার্ক সমন্বয়ের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানের জটিল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় একটি শক্তিশালী মেডিয়েশন প্ল্যাটফর্ম অপরিহার্য, যা নতুন প্রযুক্তি ও দ্রুত পরিবর্তনশীল ব্যবসায়িক মডেলগুলোর জন্য নেটওয়ার্কের সব উপাদানের সমন্বয় করতে সক্ষম ।” তিনি আরও বলেন, “গ্রাহক অভিজ্ঞতা এবং পরিচালনগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গ্রামীণফোনের সাথে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব চালিয়ে যেতে পেরে আমরা গর্বিত। এতে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশে বিশ্বমানের নতুন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হবে।”
-
তথ্যপ্রযুক্তিবিশ্বশিক্ষা
সিডস ফর দ্য ফিউচারের আঞ্চলিক পর্বে অংশ নিতে চীনে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা
by Razonহুয়াওয়ে সিডস ফর দ্য ফিউচার ২০২৪ বাংলাদেশ-এর ১০ জন বিজয়ী এই প্রতিযোগিতার …
-
মেগা-স্টার শাকিব খান অভিনীত ব্লকবাস্টার সিনেমা ’তুফান’ এখন গ্রামীণফোনের ফ্ল্যাগশিপ অ্যাপ মাইজিপিতে …
-
সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের অসংখ্য মানুষ। ফসল, গবাদি পশু থেকে শুরু করে …
-
কো-ব্র্যান্ডেড ফোরজি স্মার্টফোন সিম্ফনি অ্যাটম ফাইভ নিয়ে এলো গ্রামীণফোন ও সিম্ফনি। বাংলাদেশে তৈরি সাশ্রয়ী মূল্যের এই স্মার্টফোনটিতে রয়েছে উন্নত মানের হ্যান্ডসেটের মত প্রিমিয়াম সব ফিচার। ফলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগুলো এখন চলে এসেছে সবার …
-
বাংলাদেশের টেলিকমখাতের বিটিএসগুলোতে (বেস ট্রান্সসিভার স্টেশন) ব্যবহারের জন্য লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদনে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে হুয়াওয়ে ও ওয়ালটন। হুয়াওয়ে বাংলাদেশের সিইও প্যান জুনফেং ও ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস এম রেজাউল আলম আজ ঢাকায় হুয়াওয়ে বাংলাদেশ একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এছাড়া ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি, গ্রামীণফোনের টেকনোলজি ডিভিশনের টাওয়ার ইনফ্রার পরিচালক ও প্রধান মো. আব্দুর রায়হান এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক/ক্যারিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩০ জন প্রতিনিধি এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এই চুক্তির আওতায় ওয়ালটন আগামী সাত মাসের (সম্ভাব্য) মধ্যে টেলিকম লিথিয়াম ব্যাটারি বাংলাদেশে উৎপাদন ও বাজারজাত করবে। প্রতিষ্ঠানটি বছরে ৮০ হাজার ব্যাটারি উৎপাদনে সক্ষম একটি অত্যাধুনিক ও সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রোডাকশন লাইন তৈরি করার পাশাপাশি সারা দেশে এই ব্যাটারির বিক্রয় ও বিক্রয়-পরবর্তী সেবা পরিচালনা করবে। লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদনের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা, ডিজাইনের নির্দেশনা, কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিবে হুয়াওয়ে। বহু বছর ধরে বিটিএস টাওয়ার ব্যাকআপ পাওয়ারের উৎসের জন্য লেড-এসিড ব্যাটারির উপর নির্ভরশীল। এই ব্যাটারিগুলো লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির মতো পরিবেশবান্ধব নয়। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির চেয়ে লেড ব্যাটারি ৫০% বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করে। এছাড়া এগুলো বায়ু ও মাটির দূষণের জন্যও দায়ী। অন্যদিকে লেড-এসিড ব্যাটারির সক্ষমতাও তুলনামূলকভাবে কম। এর কার্যকারিতা মাত্র ৮০-৮৫%। পাশাপাশি স্থায়ীত্ব ও ব্যাটারি এনার্জি ডেনসিটিও কম। বিটিএস-এ এগুলোর জন্য বেশি জায়গা প্রয়োজন হয়। অপরদিকে, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির কার্যকারিতা প্রায় ১০০%। এই ব্যাটারি যেমন দীর্ঘস্থায়ী, তেমন এর রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনও কম। পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি পরিবেশবান্ধব। এই কারণে বিটিএস টাওয়ারের ব্যাকআপ পাওয়ার হিসেবে লিথিয়াম ব্যাটারি টেলিকমখাতে ইতোমধ্যেই গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। তবে বাংলাদেশের বাজারে এখনো নিম্ন মানের নন-ইন্টেলিজেন্ট লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহৃত হচ্ছে। এইসব নন-ইন্টেলিজেন্ট লিথিয়াম ব্যাটারির স্থায়ীত্ব কম এবং রক্ষণাবেক্ষণও বেশ জটিল। এছাড়া এনএমএস (নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম)-এর মাধ্যমে এসব ব্যাটারির ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়। এই ধরনের নন-ইন্টেলিজেন্ট লিথিয়াম ব্যাটারি কোনো সাইট থেকে চুরি হলে টেলিকম অপারেটররা সময়মতো চুরির ঘটনা সনাক্ত করতে পারে না। ফলে সেই সাইটে ব্যাকআপ পাওয়ার থাকে না এবং অনেক সময় সাইটটি বন্ধও হয়ে যায়। এই কারণে সেই এলাকার ব্যবহারকারীরা নেটওয়ার্ক সমস্যার সম্মুখীন হন। হুয়াওয়ে ও ওয়ালটনের চুক্তি এবং আগামীতে উৎপাদিত উচ্চমানের ইন্টেলিজেন্ট ব্যাটারি টেলিকম শিল্পে খরচ সাশ্রয়, পরিচালনা দক্ষতা বৃদ্ধি ও দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় সহায়ক হবে। এছাড়া এর ব্যবহার বাংলাদেশকে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সাহায্য করবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, “বর্তমানে সারাবিশ্বে নবায়নযোগ্য শক্তির একটি বিপ্লব চলছে। ক্রমশ জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে সোলার ফটোভোলটাইক ও বায়ুচালিত শক্তি মতো নবায়নযোগ্য শক্তির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। আগামীতে উন্নয়নের জন্য লিথিয়াম এনার্জি স্টোরেজ প্রযুক্তি প্রয়োজন অনস্বীকার্য। হুয়াওয়ে ও ওয়ালটনের মধ্যে আজকের চুক্তিটি এই প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমরা বিশ্বাস করি, উভয়পক্ষের এই সহযোগিতা বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান তৈরি ও রপ্তানি পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের জনগণকে উপকৃত করবে।” ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি বলেন, “আমরা সবসময় বিশ্বাস করি যে, উদ্ভাবনই অগ্রগতির চাবিকাঠি। এটি আমাদের প্রতিটি পণ্য, সল্যুশন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপের পিছনে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে। আমাদের সাম্প্রতিক উদ্যোগ হলো একটি অত্যাধুনিক লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদন কারখানা স্থাপন। এটি বাংলাদেশের টেলিকম শিল্পে বর্তমানে ব্যবহৃত লেড অ্যাসিড ব্যাটারির উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেবে, যার ফলে সামগ্রিকভাবে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় হ্রাস পাবে। এই প্রকল্পটি শুধুই একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ নয়। সবুজ পৃথিবী রক্ষার যে অনুপ্রেরণা নিয়ে ওয়ালটন কাজ করে, এই চুক্তিটি সেই লক্ষ্যের দিকে আরেকটি পদক্ষেপ। হুয়াওয়ের বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তির সাহায্যে লিথিয়াম ব্যাটারি শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে আমরা একটি সবুজ দেশ গড়ায় ভূমিকা রাখতে পারবো। হুয়াওয়ে বাংলাদেশের সিইও প্যান জুনফেং বলেন, “হুয়াওয়ের লিথিয়াম ব্যাটারি ১৭০টির বেশি দেশে ৩৪০টিরও বেশি অপারেটর ব্যবহার করছে। অর্থাৎ, বিশ্বের টেলিকম খাতে ব্যবহৃত শক্তির এক-তৃতীয়াংশের জন্য এই ব্যাটারি ব্যবহৃত হচ্ছে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে হুয়াওয়ের লিথিয়াম ব্যাটারির বাজারের শেয়ার ৩৫ শতাংশ। অপরদিকে, ওয়ালটন বাংলাদেশের সর্বাধুনিক বহুজাতিক ব্র্যান্ড, যা ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি উৎপাদনে বিশেষভাবে দক্ষ। বাংলাদেশে লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদনের জন্য ওয়ালটনের সাথে আমাদের একটি কৌশলগত চুক্তি হয়েছে।
-
তথ্যপ্রযুক্তিবাণিজ্যযোগাযোগলাইফস্টাইল
মাইজিপি অ্যাপ- এর জন্য এশিয়ান টেকনোলজি অ্যাওয়ার্ড ২০২৪ পেলো গ্রামীণফোন
by Razonএশিয়ান টেকনোলজি অ্যাওয়ার্ড ২০২৪ পেলো দেশের শীর্ষ টেলিযোগাযোগ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। ‘ডিজিটাল-টেলিযোগাযোগ’ …

