বিশ্বের বৃহত্তম ইএম টুয়েন্টিফোর সফটওয়্যার সল্যুশন স্থাপন করেছে দেশের শীর্ষ ডিজিটাল সংযোগ প্রদানকারী কোম্পানি গ্রামীণফোন। বিপুল নেটওয়ার্ক অ্যাক্টিভিটির ডেটা প্রক্রিয়াকরণ, উল্লেখযোগ্যভাবে গ্রাহক বিলিং এর নির্ভুলতা উন্নত করতে এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা আরো সমৃদ্ধ করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে এরিকসনের এই প্রযুক্তি। অত্যাধুনিক এই সিস্টেমটি গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক জুড়ে তৈরি হওয়া বিপুল ডেটা সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ এবং তা ব্যবহার উপযোগী করতে সক্ষম করে। এটি নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্সের আদ্যোপান্ত ও গ্রাহকদের সেবা গ্রহণের ধরণ সম্পর্কে তথ্য প্রদান এবং বিলিংয়ের মান উন্নত করতে সহায়ক। ইএম টুয়েন্টিফোর সিস্টেমটি ডেটাগুলোকে একীভূতকরণ এবং মানসম্মত একটি ফরম্যাটে আনতে সক্ষম, যা পরিচালনগত দক্ষতা ও পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এক মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে। অত্যাধুনিক এই সিস্টিমটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা কার্যকরভাবে ১০ কোটির বেশি গ্রাহকের তথ্য ব্যবস্থাপায় সহায়ক; যা দৈনিক ৬শ কোটির বেশি ডাটা ট্রানজেকশনের সমান। যার ফলে এই ধরণের প্রযুক্তি স্থাপনের দিক থেকে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ। এটি শুধু টেলিযোগাযোগ শিল্পের একটি মাইলফলক অর্জন নয়, গ্রাহক তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করে সেবার মান আরো বাড়াতে গ্রামীণফোনের একাগ্রতার প্রতিফলন। ইএম টুয়েন্টিফোরের বহু সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহৃত ডাটা প্রক্রিয়াকরণ, বিভিন্ন ডেটা ফরম্যাট ও প্রোটোকলের মধ্যে সমন্বয় সাধন, বৈচিত্র্যময় নেটওয়ার্ক প্রযুক্তিতে সহায়ক এবং গ্রাহক তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে দ্রুততম সময়ে বিপুল সংখ্যক ডাটা প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা। এই মানসম্মত ডাটাগুলো পরবর্তীতে বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। যেমন: বিলিং, রিপোর্টিং এবং নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে গ্রাহকদের জন্য আরো কার্যকর বিল তৈরি করা। এটি সেবা গ্রহণের পরিমাণ অনুযায়ী যথাযথ বিলিং নিশ্চিত করতে সহায়ক। গ্রামীনফোনের স্থাপন করা এই প্রযুক্তিতে ভবিষ্যতের প্রযুক্তির জন্য সহায়ক একটি ভার্চুয়ালাইজড প্ল্যাটফর্মসহ নতুন প্রজন্মের সফটওয়্যার ফিচারগুলো রয়েছে। গ্রাহকদের সর্বোত্তম সেবা প্রদানে গ্রামীণফোনের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন এই পদক্ষেপ। গ্রামীণফোনের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, “বিশ্বের বৃহত্তম এরিকসনের এই ইএম টুয়েন্টিফোর ডেটা মেডিয়েশন ব্যবস্থা স্থাপন আমাদের উদ্ভাবন ও গ্রাহককেন্দ্রিকতার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন, যা আমাদের কর্মদক্ষতাকে আরো দৃঢ় করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ডেটা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের পরিবর্তনশীল ডিজিটাল চাহিদা পূরণে এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চেষ্টা করছি, যাতে আমরা ভবিষ্যতের কানেক্টিভিটি এর মাধ্যমে আমাদের গ্রাহকদের সর্বোত্তম সেবা দিতে পারি।”গ্রামীণফোনের চিফ ইনফরমেশন অফিসার (সিআইও) নিরঞ্জন শ্রীনিবাসন বলেন, “ইএম টুয়েন্টিফোরের মাধ্যমে গ্রামীণফোন তাদের গ্রাহক ও খুচরা বিক্রেতাদের ব্যবহার এবং প্রেক্ষাপটের জন্য আরও ব্যক্তিভিত্তিক ও তাৎক্ষণিক ডেটা বিশ্লেষণ এবং এআই-সমৃদ্ধ তথ্য প্রদান করতে সক্ষম হবে। এটি আমাদের গ্রাহকদের বিলিংয়ের মান বৃদ্ধি এবং ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি দেবে নিখুঁত বিলের নিশ্চয়তা।”বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়ার হেড অব এরিকসন ডেভিড হেগারব্রো বলেন, “নেটওয়ার্ক সমন্বয়ের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানের জটিল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় একটি শক্তিশালী মেডিয়েশন প্ল্যাটফর্ম অপরিহার্য, যা নতুন প্রযুক্তি ও দ্রুত পরিবর্তনশীল ব্যবসায়িক মডেলগুলোর জন্য নেটওয়ার্কের সব উপাদানের সমন্বয় করতে সক্ষম ।” তিনি আরও বলেন, “গ্রাহক অভিজ্ঞতা এবং পরিচালনগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গ্রামীণফোনের সাথে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব চালিয়ে যেতে পেরে আমরা গর্বিত। এতে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশে বিশ্বমানের নতুন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হবে।”
যোগাযোগ
মেগা-স্টার শাকিব খান অভিনীত ব্লকবাস্টার সিনেমা ’তুফান’ এখন গ্রামীণফোনের ফ্ল্যাগশিপ অ্যাপ মাইজিপিতে উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা। ফলে নিজের স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী যে কোন সময়, যে কোন জায়গা থেকে সিনেমাটি উপভোগ করতে পারবেন সিনোমপ্রেমীরা।
সিনেমার আনন্দকে আরো বাড়িয়ে তুলতে গ্রামীণফোনের গ্রাহকদের জন্য বিশেষ অফারের অংশ হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে বেশ কয়েকটি প্লে প্যাক। এই প্লে প্যাকগুলোর মাধ্যমে গ্রামীণফোনের সেরা নেটওয়ার্কে শীর্ষস্থানীয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম চরকি ও হইচই-এ বহুল প্রত্যাশিত সিনেমা ‘তুফান’ উপভোগ করতে পারবেন গ্রাহকরা।
তুফান উপভোগের জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি প্যাক। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ৭২ টাকায় ৩০ দিনের জন্য হইচই প্লে প্যাক, ৭৭ টাকায় ৩০ দিনের জন্য চরকি প্লে প্যাক এবং ৯২ টাকায় ৩০ দিনের জন্য হইচই ও চরকি উভয় প্ল্যাটফর্মের বাংলা প্যাক। প্যাকগুলো ৩০ দিনের জন্য গ্রহণ করার মাধ্যমে ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর সমৃদ্ধ কনটেন্ট লাইব্রেরি থেকে নিজের পছন্দমত যে কোন কনটেন্ট উপভোগের সুযোগ পাবেন গ্রাহকরা। ফলে বিনোদনের জন্য এই প্যাকগুলো হয়ে উঠেছে অনন্য।
মাইজিপি অ্যাপ ব্যবহার করে সহজেই প্যাক কেনা থেকে শুরু করে কনটেন্ট দেখার সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকরা। পাশাপাশি রয়েছে একবার সাইন-অন করে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম উপভোগের সুবিধা। সহজ এই প্রক্রিয়ায় গ্রাহকরা স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের কাঙিক্ষত সেবা সাবসক্রাইব করতে এবং বারবার লগ-ইনের ঝামেলা ছাড়াই তাদের পছন্দের কনটেন্টটি উপভোগ করতে পারবেন। ওটিটি অ্যাপগুলোর মাধ্যমে কনটেন্টগুলো স্মার্ট টিভি, ল্যাপটপ, পিসি, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ডিভাইসে উপভোগ করা যাবে। ফলে যে কোন জায়গায় যে কোন সময় বিনোদন এসেছে গ্রাহকদের হাতের মুঠোয়।
সাবসক্রিপশনের জন্য সহজেই মাইজিপি অ্যাপের মাধ্যমে তা গ্রহণ করতে অথবা নিকটস্থ জিপি রিটেলার পয়েন্ট ভিজিট করতে পারেন গ্রাহকরা।
কো-ব্র্যান্ডেড ফোরজি স্মার্টফোন সিম্ফনি অ্যাটম ফাইভ নিয়ে এলো গ্রামীণফোন ও সিম্ফনি। বাংলাদেশে তৈরি সাশ্রয়ী মূল্যের এই স্মার্টফোনটিতে রয়েছে উন্নত মানের হ্যান্ডসেটের মত প্রিমিয়াম সব ফিচার। ফলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগুলো এখন চলে এসেছে সবার হাতের মুঠোয়। এই অংশীদারিত্ব ইন্টারনেটের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনকে সক্ষম ও রূপান্তরিত করতে সমাজের ক্ষমতায়নে গ্রামীণফোনের লক্ষ্যকে প্রতিফলিত করে।
৬.৭৫ ইঞ্চির প্রাণবন্ত এইচডি প্লাস ডিসপ্লের সিম্ফনি অ্যাটম ফাইভ-এ রয়েছে ১.৬ গিগাহার্টজ অক্টা কোর প্রসেসর। ফোনটিতে রয়েছে ৪জিবি সম্প্রসারণযোগ্য ৮জিবি র্যাম ও ৬৪জিবি রম, একটি ৫২ মেগাপিক্সেলের ডুয়াল ক্যামেরা ও ৫ হাজার মিলি এম্পিয়ারের দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি। কো-ব্র্যান্ডেড অ্যাটম ফাইভ স্মার্টফোনটি পাওয়া যাবে বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় রঙে, যার মধ্যে রয়েছে ডিভাইন গোল্ড, মেরিন ব্লু, অক্সি ব্ল্যাক ও টাইটানিয়াম গ্রে। অসাধারণ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এবং সাশ্রয়ী এই স্মার্টফোনটির মূল্য ৮ হাজার ৪৯৯ টাকা (অনলাইনে কেনার ক্ষেত্রে ভ্যাট ছাড়া)। গ্রামীণফোন এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার, গ্রামীণফোন সেন্টার (জিপিসি), জিপি অনলাইন শপ এবং সিম্ফনি আউটলেট থেকে স্মার্টফোনটি কিনতে পারবেন গ্রাহকরা ।
অত্যাধুনিক বৈশিষ্ট্যগুলো ছাড়াও গ্রাহকরা অ্যাটম ফাইভ কেনার ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় ডেটা অফার উপভোগ করতে পারছেন। প্রি-ইনস্টল করা মাইজিপি অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকরা ১৯৯ টাকায় ৩০ দিন মেয়াদসহ ৭জিবি ইন্টারনেট (৪জিবি নিয়মিত ডেটা+৩জিবি সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য) উপভোগ করতে পারবেন। এই এক্সক্লুসিভ প্যাকটি শুধুমাত্র কো-ব্র্যান্ডেড স্মার্টফোন ক্রয়কারী গ্রাহকদের জন্য ও সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে । সক্রিয় হওয়ার পর ছয় মাস পর্যন্ত অফারটি একাধিকবার উপভোগ করা যাবে।
গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) মোহাম্মদ সাজ্জাদ হাসিব বলেন, “সিম্ফনির সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সিম্ফনি অ্যাটম ফাইভ স্মার্টফোন আনতে পেরে আমরা আনন্দিত। গ্রাহকদের হাতে সাশ্রয়ী, আধুনিক ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে আমাদের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন এই পদক্ষেপ। আজকের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল বিশ্বে কানেক্টিভিটি আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর সিম্ফনি এটম ফাইভ আরো অনেক মানুষকে নির্ভরশীল ও ফিচারসমৃদ্ধ স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়ার পাশাপাশি দিচ্ছে স্টাইল ও কার্যকারিতার নিশ্চয়তা। অনন্য ডিজাইন ও শক্তিশালী ফিচারের বদৌলতে স্মার্টফোনটি নিশ্চিতভাবে তরুণদের মধ্যে সাড়া ফেলবে; যারা একই সাথে স্টাইল, পারফরম্যান্স ও সাশ্রয়ের সমন্বয় চান। গ্রামীণফোন গ্রাহকদের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী, বিশেষ করে তরুণদের ক্ষমতায়নে। তাদের হাতে আমরা এমন টুল পৌঁছে দিতে চাই যাতে তারা সংযুক্ত থাকতে, তথ্য জানতে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেন। অ্যাটম ফাইভ হল সাশ্রয়ী, দুর্দান্ত এবং আধুনিক প্রযুক্তির নিখুঁত সমন্বয়। আমাদের বিশ্বাস ডিভাইসটি গ্রাহকদের মধ্যে সাড়া ফেলবে এবং মোবাইল ফোন ব্যবহারে আনবে ভিন্ন মাত্রা।”
এশিয়ান টেকনোলজি অ্যাওয়ার্ড ২০২৪ পেলো দেশের শীর্ষ টেলিযোগাযোগ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। ‘ডিজিটাল-টেলিযোগাযোগ’ ক্যাটাগরিতে ‘মাইজিপি’ অ্যাপ- এর জন্য এই স্বীকৃতি পেয়েছে অপারেটরটি। এই স্বীকৃতি দেশজুড়ে ডিজিটাল অভিজ্ঞতাকে রূপান্তরিত করতে এবং অ্যাপের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় সব ডিজিটাল সেবাকে হাতের মুঠোয় আনতে মাইজিপি -এর ভূমিকাকে তুলে ধরে।
এশিয়ান টেকনোলজি অ্যাওয়ার্ড এশিয়ার আয়োজক হচ্ছে এশিয়ান বিজনেস রিভিউ, যারা এশিয়াজুড়ে বিভিন্ন খাতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনকে স্বীকৃতি দেয়। প্রযুক্তি ও ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রে নিজ নিজ খাতে নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মাননা জানাতেই এই অ্যাওয়ার্ড।
মাইজিপি অ্যাপটি ৩ কোটির বেশি স্মার্টফোনে ইনস্টল করা হয়েছে। গ্রামীণফোনের সেবা গ্রহণের ধারায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে মাইজিপি। এই অ্যাপটির মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট ম্যানেজমেন্ট, সার্ভিস কাস্টমাইজেশন এবং তাৎক্ষণিক নোটিফিকেশনসহ নিরবচ্ছিন্নভাবে বেশ কয়েকটি ফিচার উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকরা। এক ট্যাপে বিল পরিশোধ থেকে শুরু করে বিনোদনমূলক কন্টেন্ট উপভোগের সুযোগ রয়েছে অ্যাপটিতে। গ্রামীণফোনের ৯৯ শতাংশ সেবাই এখন মাইজিপিতে পাওয়া যায়, যা অ্যাপটিকে দেশের বৃহত্তম সেলফ সার্ভিস অ্যাপে পরিণত করেছে। এই অ্যাপটির মাধ্যমে ডেটা ব্যালেন্স ছাড়া লেনদেন এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল পার্টনারদের সহযোগিতায় জরুরি ব্যালেন্স সেবা গ্রহণ করতে পারেন গ্রাহকরা।
মাইজিপি’কে ওয়ান-স্টপ সল্যুশনে পরিণত করার লক্ষ্যে গ্রাহকদের পরিবর্তিত চাহিদা অনুযায়ী প্রতিনিয়ত অ্যাপটিকে আরো সমৃদ্ধ করা হচ্ছে। অ্যাপটি হয়ে উঠছে আরো সহজ, সুবিধাজনক ও গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনের উপযোগী। করোনা মহামারি চলাকালীন শিক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন তাই অনলাইন ক্লাসের জন্য লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থা করেছিল অ্যাপটি। এছাড়া বিনোদনের জন্য জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে মাইজিপি। ১০টি’র বেশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ক্রিকেট বিশ্বকাপসহ লাইভস্কোর আপডেট এবং গুরুত্বপূর্ণ খেলাগুলো সরাসরি দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে মাইজিপি।
অত্যাধুনিক ক্লাউড-নেটিভ আর্কিটেকচারের মাধ্যমে মাইজিপি অ্যাপ প্রতি সেকেন্ডে ৮ হাজার লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে। যার ফলে প্রতি মাসে ২ কোটির বেশি সক্রিয় গ্রাহকদের লেনদেন সংক্রান্ত সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। মাইজিপির নতুন সংস্করণ ৫.০ হয়ে উঠেছে আরো সহজ ও ব্যবহারবান্ধব। হাজার হাজার গ্রাহকদের মতামতের ভিত্তিতে অ্যাপটিকে আরো গ্রাহকবান্ধব করা হয়েছে।
গ্রামীণফোনের চিফ ডিজিটাল অফিসার (সিডিও) সোলায়মান আলম বলেন, “এশিয়ান টেকনোলজি এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এই স্বীকৃতি ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা প্রদানে আমাদের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। মাইজিপি শুধুই একটি বিক্রয় এবং পরিষেবানির্ভর অ্যাপ নয়। এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যা গ্রাহকদের ক্ষমতায়ন করে এবং সেবা প্রদান ও প্রযুক্তিগত উকর্ষের দিক থেকে এক নতুন মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে। উদ্ভাবন অব্যাহত রাখতে ও সেবার উন্নয়নে এই পুরস্কার আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। গ্রাহকদের জন্য সত্যিকারভাবে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও এ পুরষ্কার উৎসাহ দেবে।
গ্রামীণফোনের চিফ ইনফরমেশন অফিসার (সিআইও) নিরঞ্জন শ্রীনিবাসন বলেন, “এশিয়ান টেকনোলজি অ্যাওয়ার্ডটি পাওয়ায় আমরা গর্বিত। প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহক অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে আমাদের প্রচেষ্টার প্রতিফলন এই অ্যাওয়ার্ডটি। গ্রাহকদের প্রয়োজনকে কেন্দ্রে রেখে মাইজিপি অ্যাপটি সম্পূর্ণরূপে বাংলাদেশে স্থানীয় মেধাবীদের দ্বারা ডেভেলপ করা হয়েছে। কোটি মানুষের কাছে নিত্য প্রয়োজনীয় টুল হয়ে উঠেছে মাইজিপি অ্যাপ এবং বাংলাদেশে এমন রূপান্তর আনতে পেরে আমরা গর্বিত। নিরবচ্ছিন্ন সেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের ক্ষমতায়নে নতুন নতুন সেবা আনতে আমরা সংকল্পবদ্ধ।”
প্রযুক্তি খাতের নারীদের জন্য আয়োজিতহুয়াওয়ের ফ্ল্যাগশিপ প্রতিযোগিতা ‘উইমেন ইন টেক’-এর তিন বিজয়ী চীনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। বিজয়ীরা ইন্টারন্যাশনাল ডিজিটাল এনার্জি এক্সপো (আইডিইই) ২০২৪ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া তারা হুয়াওয়ের প্রধান কার্যালয় ও ডংগুয়ান ক্যাম্পাসে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই সফর আগামী ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হবে।
‘উইমেন ইন টেকের’ বিজয়ীরা হলেন সাফরিনা কবির, মাহমুদা নাঈম এবং সুমাইয়া তারিক লাবিবা। সুমাইয়া তারিক লাবিবা এসবিআইটি লিমিটেডের একজন ডিজাইন ভেরিফিকেশন ইঞ্জিনিয়ার। মাহমুদা নাঈম ফোরওয়ার্ন বাংলাদেশের গবেষক ও সমন্বয়কারী এবং সাফরিনা কবির ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি (আইইউটি)-এর একজন ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রী।
হুয়াওয়ে সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও হুয়াওয়ে বাংলাদেশের সিইও প্যান জুনফেং বলেন, ‘‘এসটিইএম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও গণিত)-এর ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে আমরা প্রতিভাবান নারীদের এ বিষয়ে আগ্রহী করতে চাই। পাশাপাশি তাঁদেরকে প্রযুক্তিক্ষেত্রে সফল ক্যারিয়ার গড়তেও আমরা উৎসাহ দিতে চাই। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রমাণ করার মতো বিশ্বমানের প্রতিভা বাংলাদেশের নারীদের রয়েছে। উইমেন ইন টেক বিজয়ীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিতে হুয়াওয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যাতে তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।”
গত বছর প্রথমবারের মতো ‘টেক ফর হার, টেক বাই হার, টেক উইথ হার’ প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এই উদ্যোগে হুয়াওয়ের কৌশলগত সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে ইউনেস্কো। ৭৫০ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্য থেকে ১৮ জনকে চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচিত করা হয়। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ী হন এই তিনজন।
হুয়াওয়ে ‘উইমেন ইন টেক’-এর লক্ষ্য হলো প্রশিক্ষণ, নির্দেশনা ও বিশ্বের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সাথে পরিচিতির মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন করে এসটিইএম-এর ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা। হুয়াওয়ের সম্পূর্ণ সংযুক্ত ও বুদ্ধিবৃত্তিক একটি বিশ্ব তৈরির লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রোগ্রামটি সারা বিশ্বের শত শত তরুণীকে প্রযুক্তি খাতে পেশা গ্রহণে ও উদ্যোক্তা হতে অনুপ্রাণিত করেছে।
চলমান আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতিতে জরুরিভিতিত্তে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন।বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস)’র সাথে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোয় ১০ হাজার পরিবারের হাতে ত্রাণের খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেবে কোম্পানিটি। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি অনুযায়ী পানযোগ্য নিরাপদ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে পাঁচটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পাঁচটি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিমের ব্যবস্থা করবে গ্রামীণফোন। গ্রামীণফোনের হেড অব ইএসজি ফারহানা ইসলাম বলেন, “এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় বিশ্বাসী গ্রামীণফোন। আমাদের কোম্পানির নেয়া পদক্ষেপের পাশাপাশি আমরা কর্মীদের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি, যাতে তারা স্বেচ্ছায় দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পান। তাদের ব্যক্তিগত সহায়তা ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে। সমাজের প্রয়োজনে সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমরা সংকল্পবদ্ধ।”বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (বিডিআরসিএস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম. ইউ. কবীর চৌধুরী বলেন, “বন্যার কারণে দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষদের পাশে দাঁড়াতে এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ত্রাণ পৌঁছে দিতে গ্রামীণফোনের সাথে আমাদের এই সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।“ ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার লক্ষ্যে ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, খাগড়াছড়ি, হবিগঞ্জ, চাঁদপুর, লক্ষীপুর, রাঙামাটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় বিনামূল্যে ১০ মিনিট এবং ৫০০ এমবি ইন্টারনেট প্রদান করছে গ্রামীণফোন, যাতে তারা জরুরি যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে পারেন। গ্রাহকরা *১২১*৫০৫০# ডায়াল করে সুবিধাটি গ্রহণ করতে পারবেন, যার মেয়াদ হবে ৩ দিন। এছাড়া দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় নিকটস্থ চলমান গ্রামীণফোন সাইটে মোবাইল ফোন চার্জ দেয়ার সুযোগ পাবেন মানুষজন।
শাওমি বাংলাদেশ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের মাঝে ছাতা বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে, দীর্ঘ সময় ধরে রোদ ও বৃষ্টিতে কাজ করা পলিশ সদস্যদের শাওমি কিছুটা স্বস্তি প্রদান করছে। শাওমির এই উদ্যোগ ট্রাফিক পুলিশদের গুরুত্বপূর্ণ সেবার স্বীকৃতি এবং সংহতি প্রদর্শনের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
ছাতা বিতরণ ১৩ই আগস্ট ২০২৪ বিকেলে ঢাকার গুলশান-১ সার্কেল, গুলশান-২ সার্কেল এবং বনানী ১১ সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক চৌরাস্তায় শুরু হয়, যেখানে শাওমি বাংলাদেশের কর্মকর্তারা উপস্থিথ ছিলেন।

শাওমির চলমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, সিলেট এবং উত্তরবঙ্গের প্রধান সব সড়ক, শপিং মল সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টে মোট ৮০০টি ছাতা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
এই বিষয়ে, শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার, জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “শাওমিতে, আমরা কমিউনিটিতে অবদান রাখাকে গভীরভাবে মূল্যায়ন করি, এবং যারা জনসেবায় নিরলসভাবে কাজ করেন তাদের সহায়তা করি। এই ছাতা বিতরণ আমাদের দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন পরিশ্রম করা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশের একটি উপায়।”
দেশের অন্যতম উদ্ভাবনী ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক, ইন্সটিটিউট অফ কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট একাউন্টেন্টস অফ বাংলাদেশ(আইসিএমএবি)- এর সাথে যৌথভাবে একটি নলেজ শেয়ারিং সেশন আয়োজন করেছে। ব্যবসা পরিচালনায় এথিকস ও কমপ্লায়েন্স বিষয়ক চর্চার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুই প্রতিষ্ঠানের পেশাজীবীদের নিয়ে সেশনটির আয়োজন করা হয়।
সেশনটিতে অংশগ্রহণকারীরা কর্পোরেট কাঠামোর সাথে নৈতিকতার সংযোগ ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠানে সততার চর্চাকে কীভাবে শক্ত ভিত্তি দেওয়া যায় সে বিষয়ে পারস্পরিক মতবিনিময় করেন। “ড্রাইভিং বিজনেস এক্সিলেন্স থ্রু এথিকস এন্ড কমপ্লায়েন্স” শীর্ষক সেমিনারটি সম্প্রতি রাজধানীর আইসিবিএমএ ভবনের রুহুল কুদ্দুস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।
দুই শতাধিক কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট একাউন্টেন্ট পেশাজীবীর উপস্থিতিতে সেশনটি পরিচালনা করেন কমপ্লায়েন্স অপারেশন্স এন্ড এএমএল প্রোগ্রাম ডেপুটি ডিরেক্টর মোহাম্মদ আদিল হোসেন ও বাংলালিংক-এর হেড অফ ইনভেস্টিগেশনস, ট্রেনিং এন্ড গাইডেন্স মোহাম্মদ সেলিম কবীর।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি অফ ফাইনানশিয়াল ইন্সটিটিউশন্স ডিভিশন (এফআইডি) ও কাউন্সিল মেম্বার অফ আইসিএমএবি, মোঃ আবদুর রহমান খান এফসিএমএ ও বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলালিংক-এর চিফ এথিকস এন্ড কমপ্লায়েন্স অফিসার, মুনিরুজ্জামান শেখ। নলেজ শেয়ারিং সেশনটিতে সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করেন কাউন্সিল মেম্বার অফ আইসিএমএবি ও গ্রুপ বিজনেস চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও), রহিমআফরোজ গ্রুপ, হাসনাইন তৌফিক আহমেদ, এফসিএমএ।
বাংলালিংক-এর চিফ এথিকস এন্ড কমপ্লায়েন্স অফিসার, মুনিরুজ্জামান শেখ, বলেন, “বাংলালিংক-এ আমরা নৈতিকতার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইসিএমএবি-এর মত পেশাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথভাবে কাজ করার মাধ্যমে আমরা আমাদের নৈতিক মানদণ্ডের সাথে বিভিন্ন খাতের পরিচিতি বাড়াতে ও পারস্পরিক মত বিনিময়ের মাধ্যমে এই মানদণ্ডেকে বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে দিতে চাই। এই ধরণের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে আমাদের নৈতিক চর্চাকে ব্যবসার মূলনীতিতে পরিণত করে সততা ও নিয়মতান্ত্রিকতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও আমরা বৈশ্বিক কমপ্লায়েন্স মানদণ্ড পর্যালোচনা ও ব্যবসায় এর সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে এ ধরণের আয়োজন করতে চাই।”
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি অফ ফাইনানশিয়াল ইন্সটিটিউশন্স ডিভিশন (এফআইডি) ও কাউন্সিল মেম্বার অফ আইসিএমএবি, মোঃ আবদুর রহমান খান, এফসিএমএ, বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত এথিকস ও কমপ্লায়েন্স নিয়ে পেশাগত পরিসরে উন্নতির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ব্যবসার পরিচালনায় কমপ্লায়েন্সের ক্ষেত্রে কোন আপোষ করা উচিৎ নয়। এই সেশনটি থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক কিছু জানতে পেরেছি যা সামনের দিনগুলোতে এফডিএ তে প্রয়োগ করবো।”
কাউন্সিল মেম্বার অফ আইসিএমএবি ও গ্রুপ বিজনেস চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার(সিইও), রহিমআফরোজ গ্রুপ, হাসনাইন তৌফিক আহমেদ এফসিএমএ, বলেন, “যে কোন খাতের ব্যবসার টেকসই উন্নতির জন্য ব্যবসা পরিচালনায় এথিকস ও কমপ্লায়েন্সের সন্নিবেশ ঘটানো অত্যন্ত জরুরি। বাংলালিংক-এর আয়োজনে এই সেশনটি আইসিএমএবি সদস্যদের পেশাগত উন্নতি জন্য খুবই মূল্যবান ছিল। এটি তাঁদের কার্যকরী কমপ্লায়েন্স কৌশল নির্ধারণের মাধ্যমে ব্যবসায়িক উৎকর্ষ সাধনে সহায়তা করবে বলে আশা করছি।”
সেশনটিতে অনেকের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান অফ দা সেমিনার এন্ড কনফারেন্স কমিটি অ্যাট আইসিএমএবি, মোঃ মাকসুদুর রহমান, এফসিএমএ ও গ্রুপ চিফ ফাইনানশিয়াল অফিসার এন্ড কোম্পানি সেক্রেটারি অফ সেভেন সার্কেল(বাংলাদেশ) লিমিটেড মোঃ কাউসার আলম, এফসিএমএ, এফসিএস, এফসিসিএ, এফসিএ(আইসিএইডাব্লিউ)।
দেশের অন্যতম উদ্ভাবনী ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক, টিপি-লিংক রাউটারের অফিসিয়াল ডিস্ট্রিবিউটর, এক্সেল টেকনোলোজিস লিমিটেড-এর সাথে ফিক্সড ওয়্যারলেস রাউটার সার্ভিস চালু করার লক্ষ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় বিভিন্ন মডেলের টিপি-লিংক রাউটারের সাথে বাংলালিংক গ্রাহকরা আকর্ষণীয় ডাটা প্যাকসহ একগুচ্ছ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। গ্রাহক পর্যায়ে বিশ্বের শীর্ষ ওয়াই ফাই রাউটার সরবরাহকারী হিসেবে টিপি-লিংক বাংলাদেশের বাজারে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির রাউটার সরবরাহ করে আসছে। এই অফারের অংশ হিসেবে গ্রাহকরা ৬ জিবি ট্রায়াল ডাটা, ২০০ জিবি ইন্টারনেট এবং টফি, চরকি, হইচই, বঙ্গর ফ্রি সাবস্ক্রিপশন পাবেন। এই যৌথ উদ্যোগ বাসা ও অফিসে সহজে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশের গতিকে ত্বরান্বিত করবে।
বাংলালিংক গ্রাহকরা টিপি-লিংক রাউটার মডেল, এমআর ১০৫, এমআর ১০০, এমআর ১৫০ ও এমআর ৬৪০০-এর সাথে একগুচ্ছ অফার উপভোগ করবেন। ৯৯৯ টাকার এই অফারের আওতায় রয়েছে প্রতি মাসে ২ জিবি (মেয়াদ ৭ দিন) করে মোট ৬ জিবি ফ্রি ডাটা, ২০০ জিবি ইন্টারনেট ও টফি, চরকি, হইচই, বঙ্গর ফ্রি সাবস্ক্রিপশন পাবেন। সকল বাংলালিংক কেয়ার সেন্টার ও টিপি-লিংক-এর বিক্রয় কেন্দ্র থেকে এই অফারটি গ্রহণ করা যাবে।
বাংলালিংক-এর মার্কেটিং অপারেশনস ডিরেক্টর মেহেদী আল আমিন ও এক্সেল টেকনোলজিস-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর গৌতম সাহা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আজকে এই চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। বাংলালিংক-এর প্রোডাক্ট ডেপুটি ডিরেক্টর মোহাম্মাদ আসিফুর রহিম, বাংলালিংক-এর হেড অফ ডিভাইস বিজনেস মো: আতাউল হক ও এক্সেল টেকনোলজিস-এর নির্বাহী প্রধান, টিপি-লিংক প্রোডাক্ট, অন্তু সাহা সহ দুই প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন। বাংলালিংক-এর মার্কেটিং অপারেশনস ডিরেক্টর মেহেদী আল আমিন বলেন, “দেশের সবচেয়ে দ্রুতগতির ফোর-জি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের লক্ষ্য গ্রাহকদের সর্বোচ্চ মানের ডিজিটাল সেবা প্রদান করা। টিপি-লিংক-এর সাথে এই চুক্তির মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের বাসা ও অফিসে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষ সুবিধা দিতে পারবো।
এছাড়াও ওকলা® স্বীকৃত দেশের সবচেয়ে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও প্রিমিয়াম সব ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ফ্রি সাবস্ক্রিপশন প্রদানের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের সর্বোচ্চ মানের ডিজিটাল অভিজ্ঞতা প্রদান করতে পারবো বলে আশাবাদী।” এক্সেল টেকনোলজিস-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর গৌতম সাহা বলেন, “বাংলালিংক-এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে গ্রাহকদের উচ্চ মানের ডিজিটাল সমাধান প্রদান করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। ইন্টারনেট সংযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি এই চুক্তি ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও উন্নত করবে। প্যারেন্টাল কন্ট্রোল, ডিভাইস ট্র্যাকিং, ফ্রি ইন্টারনেট ও প্রিমিয়াম ওটিটি কন্টেন্টের মাধ্যমে আমাদের এই যৌথ উদ্যোগ গ্রাহকদের ডিজিটাল অভিজ্ঞতার উন্নতি ঘটাবে বলে আমরা আশাবাদী।”
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর মোবাইল যুগে প্রবেশের জন্য বাণিজ্যিক ফাইভজি অ্যাডভান্সের ওপর হুয়াওয়ের গুরুত্বারোপ
‘অ্যাডভান্সিং দ্য ইন্টেলিজেন্ট ওয়ার্ল্ড’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস সাংহাই ২০২৪-এ ফাইভজি অ্যাডভান্সের বাণিজ্যিক ব্যবহারের অভিজ্ঞতা দিচ্ছে হুয়াওয়ে। এই কংগ্রেসে হুয়াওয়ের বুথে বাণিজ্যিকভাবে কমার্শিয়াল ফাইভজি-এ (অ্যাডভান্স) ব্যবহার ও মোবাইলের এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) যুগের জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস প্রদর্শিত হচ্ছে।
হুয়াওয়ে আরও ঘোষণা করেছে যে, প্রতিষ্ঠানটি সারা বিশ্বের অগ্রগামী ফাইভজি-এ অপারেটরদের সাথে পৃথক ছয়টি সমঝোতা করেছে। এছাড়া এআই যুগে উন্নত মানের মোবাইল ভিডিও ডেভেলপমেন্টের জন্য হুয়াওয়ে আন্তর্জাতিক অপারেটর, এই শিল্পখাতের গ্রাহক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সাথে একটি যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে। এই আয়োজনে হুয়াওয়ে এফফাইভজি-এ ও নেট৫.৫জি-এর উন্নয়নের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার জন্য আন্তর্জাতিক অপারেটর ও এই শিল্পখাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে সাক্ষাৎ করবে।
হুয়াওয়ের বোর্ডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এবং আইসিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ম্যানেজিং বোর্ডের চেয়ারম্যান ডেভিড ওয়াং ’অ্যাক্সিলারেটিং ফাইভজি-এ অ্যান্ড শেপিং দ্য মোবাইল এআই এরা’ শীর্ষক বক্তৃতায় বলেন, “২০২৪ সালে মোবাইল এআই যুগের সূচনা হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে ফাইভজি-এ চালু ও অন্যান্য এআই ডিভাইস আসার কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। এই প্রযুক্তিগুলো সব জায়গায় ইনটেলিজেন্ট সার্ভিসের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই যুগটি শুধু মানুষ ও যন্ত্রের যোগাযোগকে রূপান্তরিত করবে না, বরং কনটেন্ট প্রোডাকশন ও মোবাইল ডিভাইসকে রূপান্তরিত করবে। সমাজকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি এটি মোবাইল শিল্পের জন্য সুযোগ তৈরি করবে। হুয়াওয়েতে আমরা নতুন ব্যবসায়িক উপযোগিতা তৈরি করতে ‘নেটওয়ার্কস ফর এআই’ এবং ‘এআই ফর নেটওয়ার্কস’ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ফাইভজি-এ-এর বিকাশকে ত্বরান্বিত করতে থাকবো।”
বিশ্বজুড়ে ফাইভজি ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৮০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে এবং অনেক অপারেটর ইতোমধ্যে ফাইভজির প্রথম ধাপের সুফল দেখেছে। নিউ কলিং, ক্লাউড ফোন ও গ্লাস-ফ্রি থ্রিডির মতো কনজিউমার সার্ভিসগুলোতে উচ্চগতি ও নিম্ন ল্যাটেন্সির মতো উচ্চ নেটওয়ার্ক সক্ষমতার প্রয়োজন হয়। এছাড়া শিল্পখাতের সার্ভিসের ক্ষেত্রে রেডক্যাপ ইকোসিস্টেম উন্নত হয়েছে, এমনকি প্যাসিভ আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) এখন সহজলভ্য এবং ইন্টারনেট অব ভেহিক্যালস (আইওভি) অ্যাপ্লিকেশনগুলোতেও উচ্চ আপলিঙ্ক স্পিডের প্রয়োজন হয়।
বিশ্বের শীর্ষ অপারেটরগুলো ইতোমধ্যে ৫জি-এ এর সুবিধা ব্যবহারে আগ্রহী। ৩০টিরও বেশি অপারেটর এরই মধ্যে ৫জি-এ-এর টেকনিক্যাল ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করেছে। বাজারে ২০টির কাছাকাছি মোবাইল ফোনের মডেল রয়েছে যেগুলোতে বর্তমানে মাল্টি-ক্যারিয়ার অ্যাগ্রিগেশন সাপোর্ট করে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মডেলে স্বাভাবিকভাবে এই ফিচারটি চালু হয়ে যায়। প্রায় ১০টি অপারেটর প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বাণিজ্যিকভাবে ৫জি-এ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপারেটর, এই খাতের পেশাজীবী ও নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে হুয়াওয়ে এই বছরের এমডব্লিউসি সাংহাই-এ বিভিন্ন্ আকর্ষণীয় বিষয়ে আলোচনা করবে। এই বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ৫.৫জি-এর যুগে ৫জি-এর সাফল্যকে ত্বরান্বিত করা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিশ্বে আরও দ্রুত সবাইকে যুক্ত করতে অপারেটরের আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পদ্ধতি।

