চলমান আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতিতে জরুরিভিতিত্তে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন।বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস)’র সাথে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোয় ১০ হাজার পরিবারের হাতে ত্রাণের খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেবে কোম্পানিটি। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি অনুযায়ী পানযোগ্য নিরাপদ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে পাঁচটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পাঁচটি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিমের ব্যবস্থা করবে গ্রামীণফোন। গ্রামীণফোনের হেড অব ইএসজি ফারহানা ইসলাম বলেন, “এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় বিশ্বাসী গ্রামীণফোন। আমাদের কোম্পানির নেয়া পদক্ষেপের পাশাপাশি আমরা কর্মীদের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি, যাতে তারা স্বেচ্ছায় দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পান। তাদের ব্যক্তিগত সহায়তা ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে। সমাজের প্রয়োজনে সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমরা সংকল্পবদ্ধ।”বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (বিডিআরসিএস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম. ইউ. কবীর চৌধুরী বলেন, “বন্যার কারণে দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষদের পাশে দাঁড়াতে এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ত্রাণ পৌঁছে দিতে গ্রামীণফোনের সাথে আমাদের এই সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।“ ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার লক্ষ্যে ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, খাগড়াছড়ি, হবিগঞ্জ, চাঁদপুর, লক্ষীপুর, রাঙামাটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় বিনামূল্যে ১০ মিনিট এবং ৫০০ এমবি ইন্টারনেট প্রদান করছে গ্রামীণফোন, যাতে তারা জরুরি যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে পারেন। গ্রাহকরা *১২১*৫০৫০# ডায়াল করে সুবিধাটি গ্রহণ করতে পারবেন, যার মেয়াদ হবে ৩ দিন। এছাড়া দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় নিকটস্থ চলমান গ্রামীণফোন সাইটে মোবাইল ফোন চার্জ দেয়ার সুযোগ পাবেন মানুষজন।
যোগাযোগ
শাওমি বাংলাদেশ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের মাঝে ছাতা বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে, দীর্ঘ সময় ধরে রোদ ও বৃষ্টিতে কাজ করা পলিশ সদস্যদের শাওমি কিছুটা স্বস্তি প্রদান করছে। শাওমির এই উদ্যোগ ট্রাফিক পুলিশদের গুরুত্বপূর্ণ সেবার স্বীকৃতি এবং সংহতি প্রদর্শনের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
ছাতা বিতরণ ১৩ই আগস্ট ২০২৪ বিকেলে ঢাকার গুলশান-১ সার্কেল, গুলশান-২ সার্কেল এবং বনানী ১১ সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক চৌরাস্তায় শুরু হয়, যেখানে শাওমি বাংলাদেশের কর্মকর্তারা উপস্থিথ ছিলেন।

শাওমির চলমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, সিলেট এবং উত্তরবঙ্গের প্রধান সব সড়ক, শপিং মল সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টে মোট ৮০০টি ছাতা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
এই বিষয়ে, শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার, জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “শাওমিতে, আমরা কমিউনিটিতে অবদান রাখাকে গভীরভাবে মূল্যায়ন করি, এবং যারা জনসেবায় নিরলসভাবে কাজ করেন তাদের সহায়তা করি। এই ছাতা বিতরণ আমাদের দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন পরিশ্রম করা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশের একটি উপায়।”
দেশের অন্যতম উদ্ভাবনী ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক, ইন্সটিটিউট অফ কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট একাউন্টেন্টস অফ বাংলাদেশ(আইসিএমএবি)- এর সাথে যৌথভাবে একটি নলেজ শেয়ারিং সেশন আয়োজন করেছে। ব্যবসা পরিচালনায় এথিকস ও কমপ্লায়েন্স বিষয়ক চর্চার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুই প্রতিষ্ঠানের পেশাজীবীদের নিয়ে সেশনটির আয়োজন করা হয়।
সেশনটিতে অংশগ্রহণকারীরা কর্পোরেট কাঠামোর সাথে নৈতিকতার সংযোগ ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠানে সততার চর্চাকে কীভাবে শক্ত ভিত্তি দেওয়া যায় সে বিষয়ে পারস্পরিক মতবিনিময় করেন। “ড্রাইভিং বিজনেস এক্সিলেন্স থ্রু এথিকস এন্ড কমপ্লায়েন্স” শীর্ষক সেমিনারটি সম্প্রতি রাজধানীর আইসিবিএমএ ভবনের রুহুল কুদ্দুস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।
দুই শতাধিক কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট একাউন্টেন্ট পেশাজীবীর উপস্থিতিতে সেশনটি পরিচালনা করেন কমপ্লায়েন্স অপারেশন্স এন্ড এএমএল প্রোগ্রাম ডেপুটি ডিরেক্টর মোহাম্মদ আদিল হোসেন ও বাংলালিংক-এর হেড অফ ইনভেস্টিগেশনস, ট্রেনিং এন্ড গাইডেন্স মোহাম্মদ সেলিম কবীর।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি অফ ফাইনানশিয়াল ইন্সটিটিউশন্স ডিভিশন (এফআইডি) ও কাউন্সিল মেম্বার অফ আইসিএমএবি, মোঃ আবদুর রহমান খান এফসিএমএ ও বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলালিংক-এর চিফ এথিকস এন্ড কমপ্লায়েন্স অফিসার, মুনিরুজ্জামান শেখ। নলেজ শেয়ারিং সেশনটিতে সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করেন কাউন্সিল মেম্বার অফ আইসিএমএবি ও গ্রুপ বিজনেস চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও), রহিমআফরোজ গ্রুপ, হাসনাইন তৌফিক আহমেদ, এফসিএমএ।
বাংলালিংক-এর চিফ এথিকস এন্ড কমপ্লায়েন্স অফিসার, মুনিরুজ্জামান শেখ, বলেন, “বাংলালিংক-এ আমরা নৈতিকতার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইসিএমএবি-এর মত পেশাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথভাবে কাজ করার মাধ্যমে আমরা আমাদের নৈতিক মানদণ্ডের সাথে বিভিন্ন খাতের পরিচিতি বাড়াতে ও পারস্পরিক মত বিনিময়ের মাধ্যমে এই মানদণ্ডেকে বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে দিতে চাই। এই ধরণের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে আমাদের নৈতিক চর্চাকে ব্যবসার মূলনীতিতে পরিণত করে সততা ও নিয়মতান্ত্রিকতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও আমরা বৈশ্বিক কমপ্লায়েন্স মানদণ্ড পর্যালোচনা ও ব্যবসায় এর সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে এ ধরণের আয়োজন করতে চাই।”
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি অফ ফাইনানশিয়াল ইন্সটিটিউশন্স ডিভিশন (এফআইডি) ও কাউন্সিল মেম্বার অফ আইসিএমএবি, মোঃ আবদুর রহমান খান, এফসিএমএ, বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত এথিকস ও কমপ্লায়েন্স নিয়ে পেশাগত পরিসরে উন্নতির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ব্যবসার পরিচালনায় কমপ্লায়েন্সের ক্ষেত্রে কোন আপোষ করা উচিৎ নয়। এই সেশনটি থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক কিছু জানতে পেরেছি যা সামনের দিনগুলোতে এফডিএ তে প্রয়োগ করবো।”
কাউন্সিল মেম্বার অফ আইসিএমএবি ও গ্রুপ বিজনেস চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার(সিইও), রহিমআফরোজ গ্রুপ, হাসনাইন তৌফিক আহমেদ এফসিএমএ, বলেন, “যে কোন খাতের ব্যবসার টেকসই উন্নতির জন্য ব্যবসা পরিচালনায় এথিকস ও কমপ্লায়েন্সের সন্নিবেশ ঘটানো অত্যন্ত জরুরি। বাংলালিংক-এর আয়োজনে এই সেশনটি আইসিএমএবি সদস্যদের পেশাগত উন্নতি জন্য খুবই মূল্যবান ছিল। এটি তাঁদের কার্যকরী কমপ্লায়েন্স কৌশল নির্ধারণের মাধ্যমে ব্যবসায়িক উৎকর্ষ সাধনে সহায়তা করবে বলে আশা করছি।”
সেশনটিতে অনেকের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান অফ দা সেমিনার এন্ড কনফারেন্স কমিটি অ্যাট আইসিএমএবি, মোঃ মাকসুদুর রহমান, এফসিএমএ ও গ্রুপ চিফ ফাইনানশিয়াল অফিসার এন্ড কোম্পানি সেক্রেটারি অফ সেভেন সার্কেল(বাংলাদেশ) লিমিটেড মোঃ কাউসার আলম, এফসিএমএ, এফসিএস, এফসিসিএ, এফসিএ(আইসিএইডাব্লিউ)।
দেশের অন্যতম উদ্ভাবনী ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক, টিপি-লিংক রাউটারের অফিসিয়াল ডিস্ট্রিবিউটর, এক্সেল টেকনোলোজিস লিমিটেড-এর সাথে ফিক্সড ওয়্যারলেস রাউটার সার্ভিস চালু করার লক্ষ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় বিভিন্ন মডেলের টিপি-লিংক রাউটারের সাথে বাংলালিংক গ্রাহকরা আকর্ষণীয় ডাটা প্যাকসহ একগুচ্ছ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। গ্রাহক পর্যায়ে বিশ্বের শীর্ষ ওয়াই ফাই রাউটার সরবরাহকারী হিসেবে টিপি-লিংক বাংলাদেশের বাজারে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির রাউটার সরবরাহ করে আসছে। এই অফারের অংশ হিসেবে গ্রাহকরা ৬ জিবি ট্রায়াল ডাটা, ২০০ জিবি ইন্টারনেট এবং টফি, চরকি, হইচই, বঙ্গর ফ্রি সাবস্ক্রিপশন পাবেন। এই যৌথ উদ্যোগ বাসা ও অফিসে সহজে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশের গতিকে ত্বরান্বিত করবে।
বাংলালিংক গ্রাহকরা টিপি-লিংক রাউটার মডেল, এমআর ১০৫, এমআর ১০০, এমআর ১৫০ ও এমআর ৬৪০০-এর সাথে একগুচ্ছ অফার উপভোগ করবেন। ৯৯৯ টাকার এই অফারের আওতায় রয়েছে প্রতি মাসে ২ জিবি (মেয়াদ ৭ দিন) করে মোট ৬ জিবি ফ্রি ডাটা, ২০০ জিবি ইন্টারনেট ও টফি, চরকি, হইচই, বঙ্গর ফ্রি সাবস্ক্রিপশন পাবেন। সকল বাংলালিংক কেয়ার সেন্টার ও টিপি-লিংক-এর বিক্রয় কেন্দ্র থেকে এই অফারটি গ্রহণ করা যাবে।
বাংলালিংক-এর মার্কেটিং অপারেশনস ডিরেক্টর মেহেদী আল আমিন ও এক্সেল টেকনোলজিস-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর গৌতম সাহা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আজকে এই চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। বাংলালিংক-এর প্রোডাক্ট ডেপুটি ডিরেক্টর মোহাম্মাদ আসিফুর রহিম, বাংলালিংক-এর হেড অফ ডিভাইস বিজনেস মো: আতাউল হক ও এক্সেল টেকনোলজিস-এর নির্বাহী প্রধান, টিপি-লিংক প্রোডাক্ট, অন্তু সাহা সহ দুই প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন। বাংলালিংক-এর মার্কেটিং অপারেশনস ডিরেক্টর মেহেদী আল আমিন বলেন, “দেশের সবচেয়ে দ্রুতগতির ফোর-জি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের লক্ষ্য গ্রাহকদের সর্বোচ্চ মানের ডিজিটাল সেবা প্রদান করা। টিপি-লিংক-এর সাথে এই চুক্তির মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের বাসা ও অফিসে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষ সুবিধা দিতে পারবো।
এছাড়াও ওকলা® স্বীকৃত দেশের সবচেয়ে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও প্রিমিয়াম সব ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ফ্রি সাবস্ক্রিপশন প্রদানের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের সর্বোচ্চ মানের ডিজিটাল অভিজ্ঞতা প্রদান করতে পারবো বলে আশাবাদী।” এক্সেল টেকনোলজিস-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর গৌতম সাহা বলেন, “বাংলালিংক-এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে গ্রাহকদের উচ্চ মানের ডিজিটাল সমাধান প্রদান করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। ইন্টারনেট সংযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি এই চুক্তি ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও উন্নত করবে। প্যারেন্টাল কন্ট্রোল, ডিভাইস ট্র্যাকিং, ফ্রি ইন্টারনেট ও প্রিমিয়াম ওটিটি কন্টেন্টের মাধ্যমে আমাদের এই যৌথ উদ্যোগ গ্রাহকদের ডিজিটাল অভিজ্ঞতার উন্নতি ঘটাবে বলে আমরা আশাবাদী।”
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর মোবাইল যুগে প্রবেশের জন্য বাণিজ্যিক ফাইভজি অ্যাডভান্সের ওপর হুয়াওয়ের গুরুত্বারোপ
‘অ্যাডভান্সিং দ্য ইন্টেলিজেন্ট ওয়ার্ল্ড’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস সাংহাই ২০২৪-এ ফাইভজি অ্যাডভান্সের বাণিজ্যিক ব্যবহারের অভিজ্ঞতা দিচ্ছে হুয়াওয়ে। এই কংগ্রেসে হুয়াওয়ের বুথে বাণিজ্যিকভাবে কমার্শিয়াল ফাইভজি-এ (অ্যাডভান্স) ব্যবহার ও মোবাইলের এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) যুগের জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস প্রদর্শিত হচ্ছে।
হুয়াওয়ে আরও ঘোষণা করেছে যে, প্রতিষ্ঠানটি সারা বিশ্বের অগ্রগামী ফাইভজি-এ অপারেটরদের সাথে পৃথক ছয়টি সমঝোতা করেছে। এছাড়া এআই যুগে উন্নত মানের মোবাইল ভিডিও ডেভেলপমেন্টের জন্য হুয়াওয়ে আন্তর্জাতিক অপারেটর, এই শিল্পখাতের গ্রাহক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সাথে একটি যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে। এই আয়োজনে হুয়াওয়ে এফফাইভজি-এ ও নেট৫.৫জি-এর উন্নয়নের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার জন্য আন্তর্জাতিক অপারেটর ও এই শিল্পখাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে সাক্ষাৎ করবে।
হুয়াওয়ের বোর্ডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এবং আইসিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ম্যানেজিং বোর্ডের চেয়ারম্যান ডেভিড ওয়াং ’অ্যাক্সিলারেটিং ফাইভজি-এ অ্যান্ড শেপিং দ্য মোবাইল এআই এরা’ শীর্ষক বক্তৃতায় বলেন, “২০২৪ সালে মোবাইল এআই যুগের সূচনা হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে ফাইভজি-এ চালু ও অন্যান্য এআই ডিভাইস আসার কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। এই প্রযুক্তিগুলো সব জায়গায় ইনটেলিজেন্ট সার্ভিসের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই যুগটি শুধু মানুষ ও যন্ত্রের যোগাযোগকে রূপান্তরিত করবে না, বরং কনটেন্ট প্রোডাকশন ও মোবাইল ডিভাইসকে রূপান্তরিত করবে। সমাজকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি এটি মোবাইল শিল্পের জন্য সুযোগ তৈরি করবে। হুয়াওয়েতে আমরা নতুন ব্যবসায়িক উপযোগিতা তৈরি করতে ‘নেটওয়ার্কস ফর এআই’ এবং ‘এআই ফর নেটওয়ার্কস’ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ফাইভজি-এ-এর বিকাশকে ত্বরান্বিত করতে থাকবো।”
বিশ্বজুড়ে ফাইভজি ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৮০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে এবং অনেক অপারেটর ইতোমধ্যে ফাইভজির প্রথম ধাপের সুফল দেখেছে। নিউ কলিং, ক্লাউড ফোন ও গ্লাস-ফ্রি থ্রিডির মতো কনজিউমার সার্ভিসগুলোতে উচ্চগতি ও নিম্ন ল্যাটেন্সির মতো উচ্চ নেটওয়ার্ক সক্ষমতার প্রয়োজন হয়। এছাড়া শিল্পখাতের সার্ভিসের ক্ষেত্রে রেডক্যাপ ইকোসিস্টেম উন্নত হয়েছে, এমনকি প্যাসিভ আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) এখন সহজলভ্য এবং ইন্টারনেট অব ভেহিক্যালস (আইওভি) অ্যাপ্লিকেশনগুলোতেও উচ্চ আপলিঙ্ক স্পিডের প্রয়োজন হয়।
বিশ্বের শীর্ষ অপারেটরগুলো ইতোমধ্যে ৫জি-এ এর সুবিধা ব্যবহারে আগ্রহী। ৩০টিরও বেশি অপারেটর এরই মধ্যে ৫জি-এ-এর টেকনিক্যাল ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করেছে। বাজারে ২০টির কাছাকাছি মোবাইল ফোনের মডেল রয়েছে যেগুলোতে বর্তমানে মাল্টি-ক্যারিয়ার অ্যাগ্রিগেশন সাপোর্ট করে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মডেলে স্বাভাবিকভাবে এই ফিচারটি চালু হয়ে যায়। প্রায় ১০টি অপারেটর প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বাণিজ্যিকভাবে ৫জি-এ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপারেটর, এই খাতের পেশাজীবী ও নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে হুয়াওয়ে এই বছরের এমডব্লিউসি সাংহাই-এ বিভিন্ন্ আকর্ষণীয় বিষয়ে আলোচনা করবে। এই বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ৫.৫জি-এর যুগে ৫জি-এর সাফল্যকে ত্বরান্বিত করা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিশ্বে আরও দ্রুত সবাইকে যুক্ত করতে অপারেটরের আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পদ্ধতি।
মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস সাংহাই ২০২৪-এ আয়োজিত ‘ফাইভজি এডভান্স ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ গোলটেবিল বৈঠকে হুয়াওয়ে ওয়্যারলেস সল্যুশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড চিফ মার্কেটিং অফিসার এরিক ঝাও বক্তব্য রেখেছেন। এই বক্তব্যে তিনি নেটওয়ার্কে এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) ব্যবহারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। প্রথম পর্যায়ে আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাংঝো, গুয়াংঝো, ব্যাংকক, জিনান এবং শেনজেনে ১,০০০ সাইট ইঞ্জিনিয়ার ও ১০,০০০ সাইটকে এর আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিন বছরের নিরন্তর প্রচেষ্টার পর টেলিকম খাতে ফাইভজি-এ (এডভান্স) পরিকল্পনার পর্যায় থেকে বাস্তবে রূপ পেয়েছে। ২০২৪ সালকে বাণিজ্যিকভাবে ফাইভজি-এ-এর প্রথম বছর হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত নেটওয়ার্ক, ব্যবসা ও ডিভাইস ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে ফাইভজি-এ উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। বর্তমানে মোবাইল নেটওয়ার্ক জটিল কার্যক্রম ও রক্ষণাবেক্ষণ, নেটওয়ার্কের নানা বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন অভিজ্ঞতা-নির্ভর কার্যক্রমের সাথে সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। বিষয়গুলো বিবেচনা করে হুয়াওয়ে নেটওয়ার্কে এআই ব্যবহারের প্রস্তাব করেছে। অর্থাৎ, রেডিও এক্সেস নেটওয়ার্ক (আরএএন) ইন্টেলিজেন্ট এজেন্ট তৈরি করে নেটওয়ার্কের কার্যক্রম ও রক্ষণাবেক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও সেবায় নতুন মাত্রা যোগ করা হবে।
আরএএন ইন্টেলিজেন্ট এজেন্ট বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে সহজ করে দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো হুয়াওয়ের চালু করা ফিল্ড মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার কোপাইলট। এই ধরনের প্রথম প্রযুক্তি হিসেবে চালু হওয়া কোপাইলটটিতে রয়েছে এআই-ভিত্তিক অ্যাসিস্টেন্ট, যা বিশেষায়িত তথ্যের উপর ভিত্তি করে স্বাধীনভাবে সল্যুশন পলিসি তৈরির মাধ্যমে দক্ষতা বাড়াতে পারে। একটি ফিল্ড কেসে এটি দশগুণ বেশি দক্ষতার সাথে অপটিক্যাল পাথ ফল্ট পরিচালনায় সাহায্য করছে।
আরএএন ইন্টেলিজেন্ট এজেন্ট নেটওয়ার্ককে স্বাধীন ও কার্যকরভাবে অভিজ্ঞতা দিতে ও শক্তি সঞ্চয় করতে সাহায্য করে। এই অপ্টিমাইজেশান প্রক্রিয়াটি মাল্টি-ডাইমেনশনাল হাই-প্রিসিশন সেন্সিং এবং অপটিমাল এক্সপেরিয়েন্স ও ইনার্জি-সেভিং পলিসির উপর ভিত্তি করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে। ২২৩টি সেলে আবৃত একটি এলাকায় আরএএন ইন্টেলিজেন্ট এজেন্ট কয়েক হাজার ঘন্টা ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছে। এর ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শক্তির ব্যবহার সর্বনিম্ন পর্যায়ে রেখে কার্যকারিতা সর্বোচ্চ করা সম্ভব হয়েছে। এই ধরনের স্বয়ংক্রিয় নেটওয়ার্কের কার্যক্রম ও রক্ষণাবেক্ষণ বাস্তবায়নে হুয়াওয়ে এই প্রথম অপারেটরদের সাথে কাজ করেছে।
নেটওয়ার্ক রিসোর্সের রিয়েল-টাইম ইভ্যালুয়েশনের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা-নির্ভর পরিষেবা বিষয়ক কার্যক্রমগুলোকে সহায়তা করে আরএএন ইন্টেলিজেন্ট এজেন্ট। এটি প্রয়োজন অনুযায়ী অপারেটরদের নতুন পরিষেবা সরবরাহ করতে এবং নির্ধারিত পরিষেবার (ডিটারমিনিস্ট সার্ভিস) অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে ফাইভজি-এ লাইভস্ট্রিমিং অ্যাসিউরেন্স প্যাকেজটি দারুণ সহায়ক। বিশ্বে প্রথম এই ধরনের লাইভ স্ট্রিমিং প্যাকেজ হিসেবে এটি ফলচাষীদের কাঙ্ক্ষিত আপলিংক স্পিড দিয়েছে, যার মাধ্যমে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে তারা গ্রাহকদের কাছে সহজে পৌঁছাতে পেরেছে।
ঝাও বলেন, “এআই-কে নেটওয়ার্কে নিয়ে আসাই আমাদের লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমাদের দিক থেকে আমরা একটি সল্যুশন প্রোভাইডার থেকে ইন্টেলিজেন্ট নেটওয়ার্কের সহ-নির্মাতাতে (কো-বিল্ডার) পরিণত হবো। আমরা বিশ্বাস করি যে, আরএএন ইন্টেলিজেন্ট এজেন্ট ও নেটওয়ার্কগুলোর যৌথ প্রবৃদ্ধি আরও বিস্তৃত পরিসরে ব্যবসায়িক মূল্য তৈরি করবে, আরও দ্রুত নেটওয়ার্কগুলোকে রূপান্তরিত করবে এবং আমাদের শিল্পকে বুদ্ধিমত্তার একটি নতুন যুগে নিয়ে যাবে।”
আন্তর্জাতিক অপারেটর, এই খাতের পেশাজীবী ও নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে হুয়াওয়ে ২৬ জুন থেকে শুরু করে ২৮ জুন পর্যন্ত চীনের সাংহাইতে এমডব্লিউসি সাংহাই ২০২৪ আয়োজন করছে।
বাংলালিংক-এর মাইবিএল সুপারঅ্যাপ ৪.৫-স্টার রেটিং নিয়ে গুগল প্লে স্টোরে লাইফস্টাইল বিভাগে এখন দেশের এক নম্বর অ্যাপ। এটি দেশের একমাত্র টেলকো সুপার অ্যাপ হিসেবেও পরিচিত। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে মাইবিএল অ্যাপের সিক্স-সি সুপার অ্যাপ কৌশল, যেটি তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশের গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে। কানেক্ট, কন্টেন্ট, কেয়ার, কমার্স, কোর্স ও কমিউনিটি সমন্বিত সিক্স-সি কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে মাইবিএল সুপারঅ্যাপ সকল গ্রাহকদের ডিজিটাল জীবনযাপনের অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে, যা মাইবিএল সুপারঅ্যাপকে দেশের প্রধান লাইফস্টাইল অ্যাপে পরিণত করেছে। বিনোদন, সঙ্গীত, গেমিং, শিক্ষা, টিকিট বুকিং এবং নির্বিঘ্ন ইউটিলিটি বিল পেমেন্টসহ বিস্তৃত ডিজিটাল সেবা প্রদান করে থাকে মাইবিএল। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে গ্রাহকদের বৈচিত্র্যপূর্ণ ডিজিটাল চাহিদা পূরণ ও গ্রাহকদের জীবনযাপনকে আরও সহজ করছে মাইবিএল। সর্বোপরি উদ্ভাবনী ডিজিটাল সেবা ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের মাধ্যমে দেশের ডিজিটালাইজেশনে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছে বাংলালিংক-এর এই সুপার অ্যাপ। এই বছরের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে মাইবিএল সুপারঅ্যাপ ২৯.৫% প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই সময়ের মধ্যে, মোট ২.৭ মিলিয়ন মাইবিএল ব্যবহারকারী অ্যাপটির সংগ্রহে থাকা এক লক্ষেরও অধিক বাংলা গান উপভোগ করেছেন, ১.৪ মিলিয়ন ব্যবহারকারী ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করেছেন এবং এক মিলিয়নেরও বেশি মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী অনলাইন কোর্সে অংশ নিয়েছেন।
বাংলালিংক-এর চিফ কমার্শিয়াল অফিসার উপাঙ্গ দত্ত বলেন, “বাংলালিংকে, সকল উদ্ভাবনী ডিজিটাল সেবার উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয় গ্রাহকদের। গুগল প্লে স্টোর-এ মাইবিএল সুপারঅ্যাপ-এর ৪.৫-স্টার রেটিং অর্জন গ্রাহকদের জন্য বিনোদন থেকে শুরু করে শিক্ষা, ডাক্তারের পরামর্শ ও বিল পেমেন্টেসহ সর্বোত্তম ডিজিটাল সেবাগুলো প্রদানে আমাদের একনিষ্ঠ প্রতিশ্রুতিকেই প্রতিফলিত করে। আমরা গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনের বৈচিত্রময় চাহিদাগুলো পূরণ করা লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত অ্যাপটিকে উন্নত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই রেটিং অর্জন ও বজায় রাখার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলালিংক টিম।”
দেশের অন্যতম উদ্ভাবনী ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক, স্মার্ট প্রিপেইড মিটারিং সিস্টেম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড(বিপিডিবি)-এর সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে দেশের সবচেয়ে দ্রুতগতির বাংলালিংক ফোর-জি নেটওয়ার্ক সুবিধা। ওকলা® স্বীকৃত দেশের সবচেয়ে দ্রুতগতির ফোর-জি ইন্টারনেট সংযোগই এই চুক্তির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। এই উদ্যোগটি প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত ও বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নে সহায়ক ভুমিকা পালন করবে। বাংলালিংক-এর এন্টারপ্রাইজ বিজনেস ডিরেক্টর, রুবাইয়াত এ তানজিম ও বিপিডিবি-এর জেনারেল ম্যানেজার, কমার্শিয়াল অপারেশন, মো. মফিজুল ইসলাম সম্প্রতি বিপিডিবি-এর ঢাকা হেড অফিস, বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্প্রতি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। বিপিডিবি-এর জেনারেল ম্যানেজার, কমার্শিয়াল অপারেশন, মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, “বাংলালিংক-এর সাথে আমাদের যৌথ উদ্যোগের ঘোষণা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। বিপিডিবি বর্তমানে এর চারটি বিতরণ অঞ্চলে (চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ) স্মার্ট প্রিপেইড মিটারিং সিস্টেম বাস্তবায়নে কাজ করছে। এই উদ্যোগের সাফল্যের জন্য শক্তিশালী ও নিরাপদ যোগাযোগ অবকাঠামো নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য এনক্রিপ্টেড ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে একযোগে কাজ করা জরুরী, যা আমাদের স্মার্ট প্রিপেইড মিটারিং সিস্টেমের নির্বিঘ্ন অপারেশন ও সাফল্য নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৬ সালের মধ্যে শতভাগ প্রিপেইড মিটারিং স্থাপনের এর লক্ষ্য অর্জনে আমরা নিরিলসভাবে কাজ করছি। এই চুক্তির লক্ষ্য হল, বাংলালিংক-এর ফোর-জি ইন্টারনেট ও উদ্ভাবনী ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করে আমাদের স্মার্ট মিটারিং সিস্টেমকে আরও উন্নত করা। এটি আমাদের অপারেশনাল দক্ষতায় যথেষ্ট উন্নতি ঘটাবে বলে আমরা আশাবাদী।” বাংলালিংক-এর এন্টারপ্রাইজ বিজনেস ডিরেক্টর, রুবাইয়াত এ তানজিম বলেন, “বাংলালিংক-এ আমাদের লক্ষ্য হল, গ্রাহকদের অত্যাধুনিক ডিজিটাল সমাধানের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন ও সহজে সুবিধা প্রদান করা। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শীর্ষ ডিজিটাল অপারেটর হিসেব আমরা আমাদের নেটওয়ার্ক কভারেজের ব্যাপক বিস্তার ঘটিয়েছি। সবচেয়ে দ্রুতগতির ফোর-জি ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারা দেশে বিদ্যুৎ সেবা ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বাংলালিংক-এর ডিজিটাল পোর্টফোলিও আরও সমৃদ্ধ হল। একটি কার্যকরী ডিজিটাল ইকোসিস্টেম তৈরি করে এই যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতের স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।” চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিপিডিবির পরিচালক মৃগাঙ্ক মোহন পাল, বিপিডিবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: সোহেল হোসেন সিরাজী, বাংলালিংক-এর হেড অফ স্ট্র্যাটেজিক বিজনেস, এন্টারপ্রাইজ বিজনেস, এস এম শামসুর রহমান, বাংলালিংক-এর কর্পোরেট একাউন্ট ম্যানেজার, এন্টারপ্রাইজ বিজনেস সোয়াদ আজাদ ও শাহ মোহাম্মদ বদিউর রহমানসহ দুই প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে ইউনিফাইড (একীভূত) লাইসেন্স পেয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় উদ্ভাবনী ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক। এই লাইসেন্স থেকে প্রাপ্ত সুবিধার ফলে বাংলালিংক-এর জন্য উন্নত সংযোগ ও গ্রাহকসেবা প্রদানের ক্ষেত্র আরও প্রশস্ত হয়েছে। একীভূত এই লাইসেন্স সুবিধা বর্তমানে বিদ্যমান থাকা টু-জি, থ্রি-জি, ফোর-জিসহ ভবিষ্যতে আসন্ন সকল প্রযুক্তিগত সেবাপ্রদানের লাইসেন্সকে একত্রীকরণ করেছে। বাংলালিংক-এর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, এরিক অস বিটিআরসি অফিসে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদ-এর কাছ থেকে এই একীভূত লাইসেন্স গ্রহণ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে বিটিআরসি ও বাংলালিংক-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। নতুন ইস্যকৃত এই লাইসেন্স সংযোগ বৃদ্ধি ও টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানের পথকে মসৃণ করবে। এছাড়াও এটি একটিভ শেয়ারিং, ডাটা রিটেনশনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা, অডিট চলাকালীন সময়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন ফি নির্ধারণে আরো স্বচ্ছতা এনেছে। এর ফলে উন্নত প্রযুক্তিগত সেবাপ্রদান সহজ হবে যা উদ্ভাবনী সেবার মান বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ রুপকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। বাংলালিংক-এর মূল কোম্পানি ভিওন-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কান তেরজিওগ্লু বলেন, “উচ্চ মানসম্মত গ্রাহকসেবার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে একীভূত লাইসেন্স সুবিধাটি আমাদের জন্য একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী প্রাপ্তি। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার যৌথ লক্ষ্যে কাজ করতে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের এই সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণে বাংলালিংকে সহযোগিতা করার জন্য বিটিআরসি-কে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।” বিটিআরসি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আজ বাংলালিংক-কে একীভূত লাইসেন্স প্রদানের মাধ্যমে আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে টেলিকম খাতকে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলাম। কর্পোরেট গভার্নেন্স-এর মান বজায় রেখে ডিজিটালি উন্নত ও সমৃদ্ধ আগামী গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার জন্য আমরা বাংলালিংক-কে সাধুবাদ জানাচ্ছি।” বাংলালিংক-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, এরিক অস একীভূত লাইসেন্স প্রাপ্তিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “এটি সারা দেশে উদ্ভাবনী ডিজিটাল সেবা বিস্তৃতির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। এই পদক্ষেপটি বাংলালিংক-এর জন্য গ্রাহকের পরিবর্তিত চাহিদা অনুযায়ী আরো বেশি ডিজিটাল সেবা প্রদানের পথ সহজ করে দিল।”
বাংলালিংক-এর মূল কোম্পানি ও বিশ্বের অন্যতম ডিজিটাল অপারেটর ভিওন, পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসনমূলক (ইএসজি) কাজে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মরগান স্ট্যানলি ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল (এমএসসিআই) কর্তৃক ‘এএ’ রেটিং অর্জন করেছে। বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও সেবা প্রদান করে থাকে এমএসসিআই। বাংলালিংকসহ বিশ্বজুড়ে ভিওন-এর অন্যান্য অপারেটররা টেকসই ও ডিজিটালি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে এই সামগ্রিক রেটিং অর্জনে গুরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, বাংলালিংক তাদের ‘সকলের জন্য ফোর-জি’ কার্যক্রমের বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইতোমধ্যে দেশের বিশালসংখ্যক জনগোষ্ঠীর কাছে ডিজিটাল সেবার সুফল পৌঁছে দিয়েছে। এই প্রচেষ্টা দেশের ডিজিটাল রুপান্তরের ক্ষেত্রে ও সরকারের “স্মার্ট বাংলাদেশ”-এর লক্ষ্য পূরণে গুরত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বাংলালিংক-এর ইএসজি এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২৬ সাল নাগাদ কোম্পানিটি নারী কর্মীদের সংখ্যা ৩ শতাংশ বাড়িয়ে ২৯ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে। সম্প্রতি বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড মোবাইল কংগ্রেস’-এ জিএসএমএ-এর ‘কানেক্টেড উইমেন ইনিশিয়েটিভ’-এর সাথে যৌথভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এছাড়াও, বাংলালিংক এর উদ্ভাবনী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মাইবিএল সুপার অ্যাপ ও টফি-এর মাধ্যমে শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে লাখো মানুষের জীবনে অবদান রেখে যাচ্ছে। মাইবিএল সুপার অ্যাপ দেশের প্রথম টেলকো সুপার অ্যাপ, বর্তমানে এর আশি লাখেরও বেশি মাসিক সক্রিয় গ্রাহক রয়েছে। সম্প্রতি বাংলালিংক টেকসই ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করেছে, যা কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা কার্যক্রমের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখছে। এই অর্জন কর্মীদের সম্পৃক্ততা ও তাদের সন্তুষ্টির নিশ্চয়তা প্রদানের ক্ষেত্রে ভিওন-এর প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরে। ভিওন-এর গ্রুপ সিইও কান তেরজিওগ্লু কোম্পানির কর্মচারী ব্যবস্থাপনা নিয়ে গর্বিত, কারণ এটি সংশ্লিষ্ট সেক্টরের অন্য সকলের চেয়ে মানসম্মত।১৬ কোটিরও বেশি গ্রাহক নিয়ে বিশ্বের ছয়টি দেশে বিস্তৃত ভিওন-এর সফলতার মূলে রয়েছে বেশকিছু গুরত্বপূর্ণ মৌলিক সিদ্ধান্ত। এরমধ্যে অন্যতম হলো, ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে প্রভাব বিস্তারকারী পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়ন, সুশাসন নিশ্চিতকারী নীতিমালাগুলিকে প্রাধান্য দেওয়া ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করা। বাংলালিংক-এর সিইও, এরিক অস বলেন, “ভিওন এর ‘এএ’ রেটিং কেবলমাত্র ‘সবার জন্য ফোর-জি’ উদ্যোগের প্রতি বাংলালিংকের নিষ্ঠাকেই নির্দেশ করে না, বরং সকলের জন্য উদ্ভাবনী ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এর বিশেষ ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেয়। বাংলালিংক-এর গৃহীত কার্যক্রমগুলির মূলে ছিলো সবার জন্য উপযোগী কর্মপরিবেশ নিশ্চতি করা, বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাওয়া।” এই অর্জনটি বিশ্বব্যাপী ১৩১টি টেলিযোগাযোগ সেবা সংস্থার মধ্যে ভিওনকে ‘নেতৃত্বদানকারী’ বিভাগে স্থান দেয়, যা টেকসই এবং নৈতিক ব্যবসায়িক অনুশীলনের প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রমাণ।

